Back to Home
মমি
আগুনে পোড়ানো মমি: ইবালোইদের অদ্ভুত ঐতিহ্য
আগুনে পোড়ানো মমি: ইবালোইদের অদ্ভুত ঐতিহ্য আমরা যখন মমির কথা শুনি, সাধারণত মিশরের পিরামিড আর কফিনের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু মমি তৈরির এই প্র...
By sourav • 2024-10-19
আগুনে পোড়ানো মমি: ইবালোইদের অদ্ভুত ঐতিহ্য
আগুনে পোড়ানো মমি: ইবালোইদের অদ্ভুত ঐতিহ্য
আমরা যখন মমির কথা শুনি, সাধারণত মিশরের পিরামিড আর কফিনের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু মমি তৈরির এই প্রথা শুধু মিশরীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন সভ্যতায় মানুষ মৃতদেহ সংরক্ষণের এমন অনেক কৌশলই বের করেছিল। তার মধ্যে একটি অন্যতম উদাহরণ হল আগুনে পোড়ানো মমি।
ফিলিপিন্সের উত্তরাঞ্চলের বেঙ্গুত প্রদেশের কাবাইয়ান অঞ্চলে বসবাসকারী ইবালোই উপজাতির মানুষেরা মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে মমি তৈরির একটি অনন্য প্রথা অনুসরণ করত। টিম্বাক পর্বতের গুহাগুলোতে এই মমির অসংখ্য নিদর্শন পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মমিকে ইবালোই বা কাবাইয়ান মমি বলা হয়।এখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কবে থেকে শুরু হয়েছিল এই প্রথা?
এই প্রথা কবে থেকে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একমত হওয়া যায়নি। অনেকে মনে করেন, ১২০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই প্রথা চালু হয়েছিল। আবার অনেকে বলেন, এটি তারও অনেক আগে থেকে চলে আসছিল। তবে ১৫০০ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রী ফার্দিন্যান্দ ম্যাজেলান ফিলিপিন্সে উপনিবেশ স্থাপন করার পর থেকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। ফলে এই মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রথাও বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। তারা কিভাবে মমি তৈরি করত?
মৃত্যুর আগে মুমূর্ষু ব্যক্তিকে এক ধরনের লবণাক্ত পানীয় খাওয়ানো হত। এতে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় বলে বিশ্বাস করা হত। এরপর মৃত্যুর পর মৃতদেহকে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে বিশেষ কম্বলে ঢেকে দেওয়া হত। এরপর ধোঁয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে পানি শুকিয়ে নেওয়া হত। গুহার কাছে ছোট ছোট আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া দিয়ে শরীর শুকানোর প্রক্রিয়া চলত। শেষ প্রক্রিয়ায় শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে, “দুদুয়ান” নামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হত।পরিশেষে এইসব প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহকে কফিনে রেখে পাহাড়ি গুহায় সমাধিস্থ করা হত। ইবালোইদের বিশ্বাস ছিল, যদি মৃতদেহ গুহা থেকে সরানো হয়, তবে তার আত্মা কষ্ট পাবে এবং অভিশাপ নেমে আসবে।
তবে ১৯১৯ সালে আপো আন্নু নামে একটি বিখ্যাত মমি চুরি হয়ে যায়। পরে এটি উদ্ধার করে ফিলিপিন্সের জাতীয় জাদুঘরে পাঠানো হয়।বর্তমানেও কিছু আগুন মমি সংগ্রাহকদের কাছে রয়েছে। ইবালোইরা আজও তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে। তারা গুহায় খাদ্য ও পানীয় উৎসর্গ করে থাকে। তবে গবেষণার জন্য স্থানীয় নেতাদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।আগুনে পোড়ানো মমি ইবালোইদের একটি অনন্য সংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই প্রথা কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং কেন এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হত, তা নিয়ে অনেক রহস্য এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
শিক্ষার্থী অনার্স তৃতীয় বর্ষ (২০-২১) সৌরভ হালদার ব্যবস্থাপনা বিভাগ সরকারি ব্রজলাল কলেজ খুলনা
আমরা যখন মমির কথা শুনি, সাধারণত মিশরের পিরামিড আর কফিনের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কিন্তু মমি তৈরির এই প্রথা শুধু মিশরীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন সভ্যতায় মানুষ মৃতদেহ সংরক্ষণের এমন অনেক কৌশলই বের করেছিল। তার মধ্যে একটি অন্যতম উদাহরণ হল আগুনে পোড়ানো মমি।
ফিলিপিন্সের উত্তরাঞ্চলের বেঙ্গুত প্রদেশের কাবাইয়ান অঞ্চলে বসবাসকারী ইবালোই উপজাতির মানুষেরা মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে মমি তৈরির একটি অনন্য প্রথা অনুসরণ করত। টিম্বাক পর্বতের গুহাগুলোতে এই মমির অসংখ্য নিদর্শন পাওয়া গেছে। এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মমিকে ইবালোই বা কাবাইয়ান মমি বলা হয়।এখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে কবে থেকে শুরু হয়েছিল এই প্রথা?
এই প্রথা কবে থেকে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একমত হওয়া যায়নি। অনেকে মনে করেন, ১২০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই প্রথা চালু হয়েছিল। আবার অনেকে বলেন, এটি তারও অনেক আগে থেকে চলে আসছিল। তবে ১৫০০ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রী ফার্দিন্যান্দ ম্যাজেলান ফিলিপিন্সে উপনিবেশ স্থাপন করার পর থেকে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। ফলে এই মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রথাও বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। তারা কিভাবে মমি তৈরি করত?
মৃত্যুর আগে মুমূর্ষু ব্যক্তিকে এক ধরনের লবণাক্ত পানীয় খাওয়ানো হত। এতে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় বলে বিশ্বাস করা হত। এরপর মৃত্যুর পর মৃতদেহকে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে বিশেষ কম্বলে ঢেকে দেওয়া হত। এরপর ধোঁয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে পানি শুকিয়ে নেওয়া হত। গুহার কাছে ছোট ছোট আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়া দিয়ে শরীর শুকানোর প্রক্রিয়া চলত। শেষ প্রক্রিয়ায় শরীর পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে, “দুদুয়ান” নামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হত।পরিশেষে এইসব প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহকে কফিনে রেখে পাহাড়ি গুহায় সমাধিস্থ করা হত। ইবালোইদের বিশ্বাস ছিল, যদি মৃতদেহ গুহা থেকে সরানো হয়, তবে তার আত্মা কষ্ট পাবে এবং অভিশাপ নেমে আসবে।
তবে ১৯১৯ সালে আপো আন্নু নামে একটি বিখ্যাত মমি চুরি হয়ে যায়। পরে এটি উদ্ধার করে ফিলিপিন্সের জাতীয় জাদুঘরে পাঠানো হয়।বর্তমানেও কিছু আগুন মমি সংগ্রাহকদের কাছে রয়েছে। ইবালোইরা আজও তাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে। তারা গুহায় খাদ্য ও পানীয় উৎসর্গ করে থাকে। তবে গবেষণার জন্য স্থানীয় নেতাদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।আগুনে পোড়ানো মমি ইবালোইদের একটি অনন্য সংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই প্রথা কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং কেন এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হত, তা নিয়ে অনেক রহস্য এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
শিক্ষার্থী অনার্স তৃতীয় বর্ষ (২০-২১) সৌরভ হালদার ব্যবস্থাপনা বিভাগ সরকারি ব্রজলাল কলেজ খুলনা
About the Author

Sourav Halder
Sourav Halder is a writer and web developer focused on building modern, scalable digital platforms. He works with technologies like MediaWiki, WordPress, and the MERN stack to create powerful websites, automation tools, and knowledge platforms. Alongside development, he writes articles and analyses that explore technology, media, and society.