SH

SOURAV HALDER

The Writer's Chronicle

Back to Home
Culture

উপন্যাস: টেলিফোন

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, আকাশ মেঘলা। মনে হচ্ছে, বৃষ্টি নামবে। এই বৃষ্টি যেন আমার মন থেকে সমস্ত দুংখ ধুয়ে এক শীতল পরশ ফেলে দেবে। আমি খাট থেকে উঠে চেয়ারে বসলাম। হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক শব্দ। বাইরে থেকে আওয়াজ আসছে, “অনিক ভাই, অনিক ভাই! ভিতরে আছেন নাই?”

By Sourav Halder2026-03-07
উপন্যাস: টেলিফোন
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, আকাশ মেঘলা। মনে হচ্ছে, বৃষ্টি নামবে। এই বৃষ্টি যেন আমার মন থেকে সমস্ত দুংখ ধুয়ে এক শীতল পরশ ফেলে দেবে। আমি খাট থেকে উঠে চেয়ারে বসলাম। হঠাৎ দরজায় ঠক ঠক শব্দ। বাইরে থেকে আওয়াজ আসছে, “অনিক ভাই, অনিক ভাই! ভিতরে আছেন নাই?”

খসরু আমাকে ডাকছে। খসরু আমাদের মেসের দারায়োন। এই মেসে সবার সাথে তার ঝামেলা লেগেই থাকে। রাত ১১ টার পর বাসায় ঢোকা যাবে না, গেটের পাশে ময়লা ফেলা যাবে না, এই জাতীয় সমস্যার কারণে তার সঙ্গে সবার একরকমের টানাপোড়েন। তবে আমি বহুবার গভীর রাতে বাসায় ফিরেছি, কিন্তু খসরু কখনও কোনো কঠিন কথা বলেনি। তবে একদিন রাতে পান চিবাতে চিবাতে সে বলেছিল, “ভাই, এতো রাত করে বাসায় ফেরা ঠিক না। একটু সকাল সকাল আসতে পারেন না? দিনকাল ভালো না।”

আমি তখন খসরুর দিকে তাকিয়ে হেসে বলেছিলাম, “ঠিক আছে, খসরু।” যে হাসি দিয়ে মানুষের বিরক্তির ক্লান্তি ও রাগ নিমেষে উধাও করে দেওয়া যায় সেই টাইপের হাসি।

পরদিন দুপুরে খসরু এসে বলল, “ভাই, রাগ করছেন? এইভাবে বলা ঠিক হয় নি ।কি‌ করব বলেন? পানের নেশা উঠছিল কি বলতে কি বলে ফেলছি বুঝি নাই।”

আমি বললাম, “না, খসরু, কিছু মনে করি নি।” খসরু অনুতপ্ত হয়েছে, সবাই অনুতপ্ত হতে পারে না তাই আমার কাছে তার আবার ফিরে আসা।সে বিনয়ী।তার মনে হয়েছে আমি হয়তো রাগ করেছি। এছাড়া খসরু আমাকে সমীহ করে চলে। কেন, তা জানি না।

আমি ইচ্ছে করেই বললাম “কে? কে দরজা ধাক্কায়?”খসরু বলল, “ভাইজান, আমি খসরু।”

আমি বললাম, “ও, খসরু! আয়, ভিতরে আয়।” দরজা খোলায় আছে। খসরু ভিতরে এলো, আমি সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললাম, “দরজাটা বন্ধ করে দে, বাইরে হিমেল হাওয়া দিচ্ছে।” খসরু দরজা বন্ধ করে দিলো। আমি সিগারেট টানতে লাগলাম। খসরু আমার দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বললো, “ভাইজান, আপনার একটা চিঠি এসেছে।”

চিঠি! একটু অবাক হলাম। আমাকে চিঠি লেখার মতো কেউ আছে? বাবা-মা ছোটবেলায় না থাকায়, খালার কাছে মানুষ হয়েছি। মায়ের ভালোবাসা কখনো পাইনি, আর খালা আমাকে ৯ বছর বয়সে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমাকে চিঠি লিখবে কে? একটু বিস্মিত হলাম।
আমি খসরুর হাত থেকে চিঠিটা নিলাম, খসরু চিঠি দিয়ে চলে গেলো কিছু বলতে হলো না যাওয়ার সময় দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে গেল।ছেলেটার কমান সেন্স আছে। তবুও কেন জানি না, সবার সাথে ওর ঝামেলা লেগেয় থাকে।

এখন চিঠি পড়তে ইচ্ছে করছে না।রাতে এসে পড়বে, গভীর রাত চিঠি পড়ার উপযুক্ত সময়। বাইরে মাঘের শীত। শীত চলে যাওয়ার আগে জানান দিচ্ছে, সে এখনো আছে, আমাদের মাঝেই। যেন কেউ তাকে ভুলে না যায়। তাই কখনো হাড় কাঁপানো ঠান্ডা, কখনো হালকা গরম। প্রকৃতি যেন আমাদের সঙ্গে এক অদ্ভুত খেলা খেলছে—শীত-গরমের খেলা।

আমাদের মেসের রুমে একটা পুরনো কাঠের আলনা আছে। হাসান আমার রুমমেট ও সেখানে ওর জামাকাপড়, গামছা রাখে। তার এক পাশে আমার পাঞ্জাবি, আর কালো একটা চাদর ঝোলানো। এই চাদরটা আমাকে রুপা দিয়েছিল। সাথে একটা চিরকুটও ছিল, তাতে লেখা—

“যখন এই চাদরটা পরবে, মনে হবে আমি তোমার পাশে আছি।”

মেয়েটা কত ভালোবাসা নিয়ে বলেছিল কথাটা! হঠাৎ করেই রুপার কথা মনে পড়ে গেল। আজ ওকে ফোন করব। কালো চাদরটা গায়ে জড়িয়ে আমি বেরিয়ে পড়লাম।

রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। পকেটে মাত্র বিশ টাকার দুটি নোট। ভাবছি, গত মাসের টিউশনের টাকা এখনো পাইনি। এই মাসে পুরো হাত খালি। মেসের খরচ, হাত খরচ—সব মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার টাকা লাগবে। ভাবতে ভাবতে মনে হলো, যদি কোনো মিরাকেল ঘটে! যদি রাস্তার মোড়ে হঠাৎ দেখি, তিন হাজার টাকার তিনটা নোট পড়ে আছে, আর আমি সেটা কুড়িয়ে নিই!

ভাবতে ভাবতে হাঁটছি, এমন সময় মোড় ঘুরতেই এক ধাক্কা খেলাম। আমার চশমাটা পড়ে গেল। পাশ থেকে কেউ বলল,

— “ভাই, লাগেনি তো? সরি, সরি আমি দেখতে পাইনি!”

চশমাটা উঠিয়ে চোখে দিতেই দেখি, হিমেল! ও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, আমিও ওর দিকে।

— “আরে তুই!”

আমরা একসাথে বলে উঠলাম, তারপর হেসে ফেললাম।

হিমেল আমার কলেজ জীবনের বন্ধু। অনেকদিন পর দেখা হলো। ও বলল,

— “আগে চল, চা খাই। তারপর কথা হবে।”

পাশের একটা চায়ের দোকানে বসলাম। হিমেল আমাকে দেখে অবাক হয়ে বলল,

— “কিরে! তোর চেহারা এমন শুকনো কেন? আগে থেকেই তো হাড্ডি ছিলি, এখন দেখি আরও কঙ্কাল হয়ে গেছিস! রুপার সাথে কথা হয়? দোস্ত, মনে আছে, কলেজে থাকতে তুই আর আমি…”

আমি কিছু বলার আগেই ও একের পর এক প্রশ্ন করে চলেছে, একা একাই হাসছে, আর পুরনো দিনের গল্প বলে যাচ্ছে। আমি শুধু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।

— “কি হলো, কথা বলছিস না কেন?”

আমি হেসে বললাম, “হুম, বল, তোর খবর কী?”

হিমেল বলল, “আমি তো কলেজ শেষ না করেই একটা মার্কেটিং কোম্পানিতে ঢুকে গেলাম। প্রথমে দোকানে দোকানে মাল সাপ্লাই দিতাম, এখন মার্কেটিং অফিসার হয়েছি। তোর কি খবর?”

— “এই আর কি, ইউনিভার্সিটি শেষের পথে। এখন লাস্ট ইয়ার। খাই-দাই, ঘুরি-ফিরি।”

— “তুই তো তাহলে বেশ আয়েশে আছিস!”

— “হুম, তা বলা যায়!”

হিমেল হাসতে হাসতে বলল, “গত বছর বিয়ে করেছি ছোট্ট একটি বাচ্চা হয়েছে এই দুই মাস।বিয়েতে তোকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য অনেক খুঁজেছি তোর ঠিকানায় তো খুঁজে পেলাম না । আমাদের ব্যাচে যারা আছে সবার কাছে আমি তোর খোঁজ নিয়েছি পায়নি।তুই কোথায় থাকিস কি করিস কেউ বলতে পারে না।আজ তোর ঠিকানা নিয়ে যাবো একদিন সময় করে আমার বাসায় আছিস তোকে আমার বউয়ের রান্না খাওয়াবো ও মাংস টা বেশ‌ ভালোই রান্না করে বুঝলি।তবে ডাল টা ও তেমন ভালো রান্না করতে পারে না মেয়েদের ঐ একটায় সমস্যা সহজ কিছু সহজ করে করতে পারে না!”

হিমেল যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। কথা বলার অভ্যাস একটুও বদলায়নি। চার বছর পর দেখা, আর ও সেই পুরনো গল্পই বলে যাচ্ছে। শুনতে ইচ্ছে করছে না, তবুও ওর দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ-হুঁ করছি।

শেষ পর্যন্ত হিমেলকে বিদায় দিয়ে।রঙিলা সিনেমা হলের পাশে মালতী টি সেস্টল সেখান থেকে আমি টেলিফোন করি। বহুদিন ধরেই ভাবছি, দোকানের নাম ‘মালতী’ কেন, একবার জিজ্ঞেস করব— কিন্তু প্রতিবারই ভুলে যাই। কিন্তু মনে থাকে না আজ ওকে জিজ্ঞেস করব।

চায়ের দোকানে ঢুকতেই শফিক চেনা হাসিতে বলল, “অনিক ভাই, অনেক দিন পর দেখা!”

অদ্ভুত এক ব্যাপার! আমি সপ্তাহে অন্তত তিন-চারদিন ওর দোকানে আসি— কখনও চা খেতে, কখনও টেলিফোন করতে। তবু সে এমনভাবে বলে যেন বহুদিন পর দেখা হলো। শুধু আমাকে না, দোকানে যে-ই আসুক, তাকেই সে এভাবে স্বাগত জানায়। কেন এমন করে, একদিন না একদিন ওর কাছ থেকে শুনব। আজ রুপার সঙ্গে কথা বলার পরই ওকে প্রশ্নটা করব।

আমি হেসে বললাম, “এই তো শফিক ভাই, কেমন আছেন?”
“ভালো! আজও টেলিফোন?”
“হ্যাঁ ভাই, একটু জরুরি কথা আছে।”
“একটু দাঁড়ান, ভেতরে একজন আছেন।”

আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম। শফিক ততক্ষণে আমার কাছে এসে ভ্রু কুঁচকে গলার সুর যতটা আস্তে করা যায় সে করল এবং বলল, “এইবার কি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে?” চায়ের দোকানের আলোচনাগুলো এমনই— অর্ধেক গুজব, অর্ধেক সত্য। টিভির টকশোর চেয়ে কম নয়! আমি সংক্ষেপে বললাম, “ভাই, আমি জানি না। আপনার যা ধারণা, আমারও তাই। দেখা যাক, কী হয়!”

অবশেষে টেলিফোন ফাঁকা হলো। আমি শফিককে পাশ কাটিয়ে টেলিফোন বুথে ঢুকলাম।

রুপার বাসার নম্বর আমার মুখস্থ।
প্রথমবার ফোন দিলাম— কেউ ধরল না।
দ্বিতীয়বার— না, তবুও কেউ ধরল না।
এক মুহূর্ত ভাবলাম, আরেকবার দেব কি না। তারপর নিজেকে সামলালাম।

বেরিয়ে এসে শফিককে বললাম, “ভাই, এক কাপ চা দিন, তবে চিনি ছাড়া।”
চিনি ছাড়া চা হাতে নিয়ে চুমুক দিতে গিয়ে আবার রুপার কথা মনে পড়ল। আজ তার সঙ্গে কথা বলার বড় ইচ্ছে ছিল। ভালোবাসার টানটুকু যেন হঠাৎ করে গভীর হয়ে উঠেছে। কল্পনায় রুপার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম—

“আমি জানতাম, তুমি আজ কল করবে। আমি টেলিফোনের পাশে বসে তোমার অপেক্ষায় ছিলাম।”

রুপা কথা বলে খুব ধীরগতিতে, সংযত স্বরে। ওর কথা শুনলে যে কেউ মায়ায় পড়ে যাবে। আমি কল্পনায় বললাম, “তুমি নীল শাড়ি পরে নীলক্ষেত আসবে? আমরা পুরোনো বই কিনব, আর কিছু কথা বলব।”

রুপার কাছে পুরোনো বই মানেই স্মৃতি, এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া। ও বলে, “পুরোনো বই কথা বলে। সেখানে অনেক স্মৃতি জমা থাকে।”

আমার কল্পনা শেষ হতে না হতেই বাস্তবে ফিরে এলাম।
শফিক আমার কাঁধে হাত রেখে বলল, “অনিক ভাই! কী ভাবছেন? আপনার চা ঠান্ডা হয়ে গেল!”
আমি ধাতস্থ হয়ে এক চুমুকে ঠান্ডা চা শেষ করলাম। তারপর আবার টেলিফোনের দিকে গেলাম।
আবার কল দিলাম।
টেলিফোন বাজছে…
কেউ ধরছে না।

শফিক এবার চিন্তিত হয়ে বলল, “ভাই, কিছু সমস্যা হয়েছে? টেলিফোন কেউ ধরছে না?”
আমি কিছু বললাম না, শুধু বিল মিটিয়ে বেরিয়ে এলাম। শফিক হতবাক হয়ে আমার চলে যাওয়া দেখল।

কিছুটা দূরে এসে বাস স্ট্যান্ডের পাশে দাঁড়ালাম। শহরের ব্যস্ততা থেমে নেই। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই সবাই যেন গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়ায় ছুটছে। অফিস, স্কুল, কলেজ শেষ করে সবাই বাড়ি ফিরছে।
মানুষের এই ছুটে চলা যেন পাখিদের মতো— সকালে বেরিয়ে খাবারের খোঁজে যায়, সারাদিন ঘোরাঘুরি করে, সন্ধ্যা হলে ঘরে ফিরে আসে।
এ যেন প্রকৃতিরই এক অনিবার্য নিয়ম।

আমি কালো চাদরটা গায়ে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম।
এই শহর, এই ভিড়, এই ব্যস্ততা—
তবু কোথাও যেন শূন্যতা…
এক চাপা কষ্ট বুকের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে

দূর থেকে একটা রিকশা আসছে। মেয়েটার পরনে নীল শাড়ি, হাতে একটা ঘড়ি, কপালে ছোট্ট কালো টিপ। চোখের কোণে হালকা কাজল, মুখে যেন এক টুকরো বিরহের কবিতা লেগে আছে। আমার সামনে এসে রিকশাটা থামলো। আমি তাকিয়ে আছি, যেন সময় কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেছে।

ওমা! এ তো রুপা!

— “মামা, কত টাকা?”

রিকশাওয়ালা বললো, “বিশ টাকা।”

রুপা তার ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে কিছুক্ষণ খুঁজলো, তারপর একটা পাঁচশ টাকার নোট বের করে বলল, “এই নেন মামা, আমার কাছে খুচরা নেই।”

— “অনিক, ভাড়া দাও।”

আমি পকেট থেকে টাকা বের করে ভাড়া মেটালাম। রুপা আমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে। যেন আমার কোনো কথারই অপেক্ষা নেই, কোনো প্রশ্নেরও সুযোগ নেই।

সে আমাকে জাতিসংঘ শিশু পার্কে নিয়ে এলো। কাগজি ফুলের গাছের নিচে বসলো। আমি কিছুক্ষণ যেন ঘোরের মধ্যে থাকলাম। কি হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না।

হঠাৎ রুপা রেগে বললো, “তোমাকে কয়েকটা চিঠি লিখেছি, উত্তর দিলে না কেন? তোমার মেস চেঞ্জ করেছ, তাও জানাওনি! আমি লোক পাঠিয়েছিলাম, সে ফিরে এসে বলল তুমি সেই ঠিকানায় থাকো না। এটা কেন করলে?”

আমি একটু হেসে বললাম, “তোমাকে কখনো রাগতে দেখিনি, রাগলে তোমার চোখে জল চলে আসে।”

রুপা সত্যিই চোখ মুছতে মুছতে উঠে যেতে লাগল।

আমি ওর হাত টেনে ধরলাম। “আচ্ছা শোনো, কান্না থামাও। আমি তোমাকে ফোন করেছিলাম শরিফের দোকান থেকে, কেউ ধরেনি। বিশ্বাস করো।”

রুপা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ।

— “বাসায় কেউ ছিল না তখন। আমি ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরছিলাম। দূর থেকে দেখলাম তুমি এইদিকে হাঁটছ, তাই এগিয়ে এলাম। তোমাকে বেশ কয়েকটি চিঠি লিখেছিলাম, হয়তো তুমি পাওনি, কারণ ওগুলো তোমার আগের ঠিকানায় গেছে।”

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম, তারপর বললাম,

— “শোনো, কাল তুমি কালো শাড়ি পরে নীলক্ষেত আসবে? আজ তোমার সাথে টেলিফোনে কথা বলতে চেয়েছিলাম। যখন কেউ ধরছিল না, তখন শফিক ভাইয়ের দোকানে চা খেতে গিয়েছিলাম। সেই সময় কল্পনায় দেখছিলাম— তুমি আর আমি নীলক্ষেতের পুরাতন বইয়ের দোকানের পাশে হাঁটছি। তুমি বই কিনছ, আর আমি তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছি, হাতে লাল কাগজি ফুল। আমি সেটা লুকিয়ে রেখেছি তোমার জন্য। তারপর তুমি ফুটপাতে বই নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছো, আমি তোমার পেছনে পেছনে হেঁটে যাচ্ছি। হঠাৎ বসে পড়লাম ফুটপাতে, আর তোমার কানে সেই কাগজি ফুলটা গুঁজে দিলাম।”

রুপা চুপচাপ শুনছে।

আমি আবার বললাম,

— “জানো, আমার ইচ্ছে করছে পুরাতন জংশনে যাবো। সেখানে রেলের পাতের ওপর দিয়ে তুমি আমার কাঁধ ধরে হাঁটবে। আবার মনে হচ্ছে, আমরা দু’জন হাত ধরে হাঁটছি…।”

রুপা মৃদু হেসে বললো,

— “ঠিক আছে, আমি কাল নীল শাড়ি পরে আসব। বিকেলে আমরা ঘুরব। তুমি আসবে তো?”

আমি এক মুহূর্ত তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

— “হুম, আসব।”

About the Author

Sourav Halder

Sourav Halder

Sourav Halder is a writer and web developer focused on building modern, scalable digital platforms. He works with technologies like MediaWiki, WordPress, and the MERN stack to create powerful websites, automation tools, and knowledge platforms. Alongside development, he writes articles and analyses that explore technology, media, and society.