SH

SOURAV HALDER

The Writer's Chronicle

Back to Home
travel

খুলনার ঐতিহাসিক জোড়া শিব মন্দির

সকাল দশটা বেজে ১৫ মিনিট তখন ও চারপাশে মানুষের ঢল তেমন দেখা যায়নি, এরপর বেলা বড়লো অল্প স্বল্প করে মানুষের সমাগম হতে শুরু করেছে। খুলনা ৭ নাম্বার ঘাট থ...

By sourav2024-09-25
খুলনার ঐতিহাসিক জোড়া শিব মন্দির
সকাল দশটা বেজে ১৫ মিনিট তখন ও চারপাশে মানুষের ঢল তেমন দেখা যায়নি, এরপর বেলা বড়লো অল্প স্বল্প করে মানুষের সমাগম হতে শুরু করেছে। খুলনা ৭ নাম্বার ঘাট থেকে একটু পিছিয়ে ৬ নাম্বার ঘাট। এরপর ৫ নাম্বার ঘাট এলাকায় নদীর পাশে বড়ো গেটের ঐ পাশে তাকালে চোখে পড়বে খুলনার ৩২৭ বছরের পুরনো জোড়া শিবমন্দির।যা খুলনা জেলার প্রত্ননিদর্শন সম্বলিত ৭৪টি প্রত্নস্থলের মধ্যে একটি প্রত্নস্থল। এই মন্দিরের পাশে রয়েছে বিশাল আকৃতির প্রায় ৫০০ বছরের অধিক পুরানো জোড়া বটগাছ।

এই মন্দিরের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানা যায় যে জোড়া শিব মন্দিরটি ১১০৪ বঙ্গাব্দে শ্রী কৃষ্ণরাম বসু জোড়া শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর স্বর্গীয় মূলচাঁদ মুন্ধড়া ও মাতৃদেবী স্বর্গীয়া আনচা দেবীর স্মরণে শ্রী শিবকৃষ্ণ মুন্ধড়া দুটি শিব বিগ্রহ তৈরি করেন। পরে দুর্বৃত্ত রা মূর্তি দুটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়।এরপর সেখানকার একজন রেলওয়ে কর্মকর্তার স্ত্রী কাশী থেকে পাঁচটি মূর্তি এনে সেখানে প্রান প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সেগুলো না থাকলেও দু’টি পাথরের মূর্তি এখনও আছে।


মন্দিরটির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে গেলে আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা সিন্দাইনীর কথ্য মতে, খুলনা ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় বলদেব আগরওয়ালা নামের এক মাড়ওয়ারি ছিলেন যিনি বাংলা ১৩৪৩ সালে এই জোড়া শিব মন্দির স্থাপন করেন । আবার কেউ কেউ দাবি করেন দেওয়ান শ্রীকৃষ্ণ রামবসু নামে এক ব্যক্তি বাংলা ১১০৪ সালে এ দুটি নির্মাণ করেছিলেন যেটা মন্দিরের দেয়ালে লেখা রয়েছে প্রতিষ্ঠাতার নাম কৃষ্ণ রামবসু। মন্দিরের কথা বলতে অনেকে মনে করেন বলদেব আগরওয়ালা এ স্থানটিতে একটি বাগান নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে বাগানটির কোনো চিহ্ন নেই। এছাড়া খুলনা রেলস্টেশন তৈরির সময় ১৮৮০ সালে এখানে একটি দিঘির একাংশ ভরাট করে ফেলা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে মন্দির প্রাঙ্গণে একটি পাঠশালা ছিল বলেও জানা গেছে। মন্দির টি বহু পুরাতন একটি মন্দির মন্দিরের চারপাশে ও ভিতরে সংস্কার ও উন্নয়ন প্রয়োজন এতে যেমন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে তেমনি খুলনার ঐতিহ্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিবে।

জোড়া শিব মন্দির শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনই নয়, এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানও বটে। জোড়া শিব মন্দির খুলনার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণের জন্য দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি।এটি শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করাই হবে না, বরং খুলনার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।












About the Author

Sourav Halder

Sourav Halder

Sourav Halder is a writer and web developer focused on building modern, scalable digital platforms. He works with technologies like MediaWiki, WordPress, and the MERN stack to create powerful websites, automation tools, and knowledge platforms. Alongside development, he writes articles and analyses that explore technology, media, and society.

Related Stories

সুন্দরবনে আমাদের হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত
travel

সুন্দরবনে আমাদের হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত

অনেক দিন ধরে মন চাইছিল বন্ধুদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাই। শহরের কোলাহল আর ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করার জন্য প্রকৃতির মাঝে ডুবে যাওয়ার চেয়ে ভালো আর ক...

যশোরের এগারো শিব মন্দির: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন
travel

যশোরের এগারো শিব মন্দির: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় অবস্থিত এগারো শিব মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এই মন্দিরগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে এ...